সুস্থ থাকার সহজ উপায় – সুস্থ থাকার খাবার তালিকা

সুস্থ থাকার সহজ উপায় – সুস্থ থাকার খাবার তালিকা – আপনি হয়ত জানেন মানব দেহে মোট ২০৬টি হাড়, ৩৩০টি জয়েন্ট এবং ৩৩০টি মাংপেশি রয়েছে।এইগুলো যদি সঠিক উপায়ে যত্ন না নেওয়া হয় তাহলে লোহায় মরীচিকা ধরার মতো হয়ে যাবে।আর এর ফলে কোমর ব্যথা,হাঁটু ব্যথা,মেরুদন্ড ব্যথা ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এই জন্যই হাঁটাচলা করা,জগিং করা,সাতার কাটা এবং সাইকেলিং এর মত যোকোন কাজ করলে সঠিক উপায়ে রক্ত প্রবাহিত হবে,ওজন কমাতে সাহায্য করবে এবং পেশি শক্তিশালী করবে যা মানব দেহের জন্য খুবি গুরুত্বপূর্ন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর গবেষনা মতে পরিশ্রম করেনা এমন প্রতি ৪ জনের একজন রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে।তাছাড়া বিশ্বের নামীদামী ডাক্তারদের ভাষ্য মতে প্রতিদিন কিংবা সপ্তাহে ৪-৫ দিন কমপক্ষে আধাঘণ্টা ব্যায়াম করা প্রতিটা মানষের জন্য খুবি জরুরী।প্ররিশ্রম করা কিংবা ব্যায়াম করার ফলে শারীরিক বা মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায় এবং শরীরের বিভিন্ন প্রকার রোগ থেকে দূরে থাকা যায়।

সুস্থ থাকার সহজ উপায় – সুস্থ থাকার ঘরোয়া উপায়

প্রতিদিন নিয়ম মেনে জগিং,সাইক্লেং কিংবা সাঁতার কাটুন।এইসব কাজ আপনার শরীরের মাংসপেশিকে নাড়াতে সাহায্য করে আর এর ফলে আপনি শারীরিক বিভিন্ন ব্যথা ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।তবে ব্যথা বা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সাইক্লেং সমাধান হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ,কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাঁতার হতে পারে আপনার একমাত্র সমাধান।তাই প্রতিদিন সাঁতার কাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।কারন সাঁতার আপনার মাংস্পেশিকে নাড়িয়ে থাকে এবং শরীরের প্রতিটা জয়েন্টের গিঁট খুলে দিতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ হাঁপানি রোগের চিকিৎসা – হাঁপানি রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমরা বাড়ীর কাজ অন্যদের দিয়ে করিয়ে থাকি যাতে নিজে পরিশ্রম করা থেকে বেঁচে যেতে পারি।কিন্তু আপনি যদি বাসার কাজ কর্মগুলো নিজে করেন তাহলে আপনি শারীরিক সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আধাঘণ্টা জগিং করা আর ছয় তলা পর্যন্ত পাঁচবার ওঠানামা করা সমান।তাই লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করে নিজের শারীরিক ব্যথা যন্ত্রণার সমাধান খুঁজে নিতে পারেন।

বাইরে হাঁটতে কিংবা ব্যায়াম করতে যেতে না পারলে বাসায় নিজেই ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সুস্থ থাকার খাবার তালিকা – পুষ্টিকর ও সুষম খাবার

সুস্থ থাকার খাবার তালিকা

ভিটামিন,শর্করা,চর্বি,আমিষ,খনিজ লবন,পানি ইত্যাদি সঠিক অনুপাতে পরিমাণ মত থাকাকে সুষম খাদ্য বলে থাকে।প্রতিটা মানুষের জন্য পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার খুবি জরুরী।সুষম খাবার মানব দেহের ক্ষয় পূরণ করে শরীরের বৃদ্ধি সাধন করে এবং নানা রকম রোগ প্রতিরোদ করে থাকে বলে তাকে সুস্থ থাকার মহাঔষধ বলা হয়ে থাকে।

সূর্যে ভিটামিন ডি রয়েছে এই কথা কমবেশি সকলেরই জানা।ভিটামিন ডি এর অভাবে মানব দেহের ব্যথা বেদনা সমস্যা দেখা দেয়।এর এই ব্যথা বেদনা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন সূর্যের সংস্পর্শে থাকা প্রয়োজন।সকালের রোধা এই ক্ষেত্রে খুব কাজে আসবে কারন সকালের রোধে পুড়ে যাওয়ার মত কোন সমস্যা থাকে না।তাই প্রতিদিন ২০-২৫ মিনিট সকালের রোধের সংস্পর্শে থেকে শরীরে ভিটামিন ডি এর মাত্রা বাড়িয়ে নিন।তাছাড়া ভিটামিন ডি যুক্ত শাক সবজী এবং ফলফলাদি খেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ রাতের বিউটি টিপস – রাতে যে ৫টি বিউটি টিপস অবশ্যই পালনীয়

প্রতিদিন যা যা খেতে পারেনঃ

  • প্রতিদিন নিয়ম মেনে সবুজ শাক সবজী এবং মলমূল খেতে পারেন।দুপুরে এবং রাতে খাবারের সাথে সালাদ খেতে পারেন।
  • প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ভিটামিন,মিনারেল এবং আঁশযুক্ত খাবার যথেষ্ট পরিমাণ রাখুন।
  • দুপুরের বা রাতে অল্প পরিমানে খাবার গ্রহন করুন।
  • শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে সবুজ শাক সবজী এবং যথেষ্ট পরিমাণ ফলমূল খান।
  • সময়ে অসময়ে খিদে পেলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহন করুন।
  • খাবার মুখে দিয়ে না চিবিয়ে গিলে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।সময় নিয়ে খাবার চিবিয়ে গ্রহন করুন।
  • মানব দেহের প্রায় অর্ধেক পানি দ্বারা গঠিত।তাই সুস্থ ও সবল থাকতে পানির কোন বিকল্প নেই।প্রতিদিন পরিমাণ মত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।দিনে কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন।সব সময় পানি খেতে অসস্থিবোধ হলে লেবুর শরবত খেতে পারেন।
  • বাজারে থাকা নানা রকম সফট ড্রিঙ্ক এবং এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
  • চা কিংবা অন্য কোন কিছুতে অনেকেই অতি মাত্রায় চিনি খেতে পছন্দ করেন।নিজেকে সুস্থ রাখতে কম মাত্রায় চিনি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
  • সুস্থ থাকতে হলে ধূমপান ও মদ্যপান একেবারে নয়।
  • বাসায় বিভিন্ন প্রকার রান্নার কাজ শেষে অবশিষ্ট থাকা তেল অর্থাৎ পোড়া তেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • খাওয়ার সময় অনেকেই কাঁচা লবণ খেতে পছন্দ করেন কিন্তু অতিরিক্ত লবণ আপনার শরীরের সমস্যা তৈরি করতে পারে।তাই অতিরিক্ত লবন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ওজন নিয়ন্ত্রন

সুস্থতার বড় নিয়ামক হচ্ছে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কারন অতিরিক্ত ওজন কিংবা মোটা শরীর মানেই জীবনের নানা জটিলতা।অতিরিক্ত ওজন মানব দেহের যে জয়েন্টগুলো রয়েছে তাতে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি করে।তাই সুস্থ থাকতে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাটা প্রতিটা মানুষের জন্য খুবি জরুরি।

আরো পড়ুনঃ কালো ত্বক ফর্সা করার উপায় – কালো ত্বক ফর্সা করার সহজ উপায়

স্ট্রেস ম্যানেজম্যান্ট

স্ট্রেস মানুষের শারীরিক ও মানসিক অনেক ক্ষতি করে।অনেকেই এটা হতে দূরে থাকার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়ে উঠেনা।স্ট্রেস মানব দেহে থেকে এক ধরনের হরমোন বের করে দেয় যা মানব শরীরের টক্সিন ছড়িয়ে থাকে।এরফলে রক্তনালি সরু হয়ে যায় এবং রক্তচাপ বেড়ে হৃৎপিন্ডে সমস্যা তৈরি করে।স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে বই পড়তে পারেন,গান গাইতে পারেন,মনমুগদ্ধকর কোন জায়গাইয় বেড়াতে যেতে পারেন।

পরিমিত ঘুম

পরিমিত ঘুম সুস্থ থাকার সহজ উপায়।কাজের চাপ,মানসিক চাপ,অসুস্থ থাকা ইত্যাদি কারনে ভাল ও পরিমাণ মত ঘুম হয়না।ভাল ঘুম না হলে মন ও শরীর কোনটাই ভাল থাকার কথা না।পরিমিত ঘুম না হলে মানব দেহে হরমোন উৎপন্ন কমে যায় এবং রক্তচাপ কমে যায়।যার ফলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।ভাল ঘুমের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমিয়ে পড়ুন এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠে পড়ুন।দৈনিক ৮-১০ ঘন্টা ঘুম আপনার শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির কারন হতে পারে।

মানসিকভাবে ভাল থাকা

পরিপূর্ণ সুস্থ থাকার জন্য প্রতিটা মানুষের মানসিক দিকটা অবশ্যই ভাল হতে হবে।একজন মানুষ যদি মানসিকভাবে সুস্থ না থাকে তাহলে কর্মক্ষেত্রে,পরিবারে,বন্ধুমহলে এর খারাপ প্রভাব দেখা দেয়।

মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে করনীয়

  • নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখুন।
  • অহেতুক টেনশন নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • সব সময় ভাল চিন্তা করুন।
  • সুখ-দুঃখ যে কোন সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।
  • একা থাকা থেকে বিরত থাকুন।সব সময় চেষ্টা করুন পরিবার পরিজনের সাথে সময় কাটানোর।
  • পছন্দের কাজ গুলো করার চেষ্টা করুন। যেমনঃ বই পড়া,গান শোনা,ছবি আঁকা,খেলাধুলা এবং ঘুরতে যাওয়া।
  • ধর্মীয় প্রার্থনা এবং যোগব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।
  • ফুরফুরে মেজাজা ধরে রাখতে মন খুলে হাসুন
  • জটিল কোন মানসিক সমস্যা হলে ভাল কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মেডিক্যাল চেক আপ

আপনি নিজেকে যতই সুস্থ মনে করুন না কেন আপনার অজান্তেই হয়ত আপনার শরীরে বসবাস করছে জটিল কোন রোগ।শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে মেডিক্যাল চেক আপ খুবি গুরুত্বপূর্ন।নিয়মিত মেডিক্যাল চেক আপ যেকোন রোগ আপনার শরীরে বাসা বাধার আগেই আপনাকে সাবধান করে দিবে।

সুতরাং আপনার শরীরে কোন অসুখবিসুখ থাকুক বা না থাকুক প্রতি ৬ মাস কিংবা একবছর অন্তর একবার শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নেওয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

আশা করছি আমাদের দেওয়া সুস্থ থাকার সহজ উপায় – সুস্থ থাকার খাবার তালিকা অনুসরণ করে আপনি এবং আপনার পরিবার সুস্থ থাকবেন।যদি আমাদের লেখা আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন আর আমাদের ফেসবুক পেইজ লাইক দিতে ভুলবেন না।

Leave a Reply