ত্বক ফর্সা করার উপায় – ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

ত্বক ফর্সা করার উপায় – ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় – সূর্য এবং ধূলিকণার দূষণের কারণে মানুষ দিন দিন তার সৌন্দর্য হারিয় ফেলছে। অথচ মানুষ চাইলে ঘরে থাকা জিনিস দিয়ে রুপচর্চা করে নিজের ত্বক ফর্স ও উজ্জ্বল করতে পারে। বাজারে পাওয়া নকল ও ত্বকের জন্য খারাপ এমন প্রসাধনী ব্যবহার করে অনেকে নিজের ত্বকে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে ফেলেছেন। অথচ ত্বক ফর্সা করার ফেসিয়াল না কিনে আপনি বাসায় বসে বাসায় থাকা উপকরণ দিয়ে ত্বক ফর্সা করার ক্রিম বানিয়ে ত্বক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে পারতেন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ত্বক ফর্সা করার উপায় – ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে যা আপনার মুখকে একটি সুন্দর আভা দিয়ে ঝলমলে করে তুলবে।

ত্বক ফর্সা করার উপায় – ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

কালো ত্বক ফর্সা করার উপায়

লেবু ও মধুর ব্যবহার

লেবু মুখের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এই ভিটামিন ত্বকের ছিদ্রগুলির গভীরে যায় এবং ত্বককে পরিষ্কার করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। লেবুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে এটি ত্বকে রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে এবং ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখে।

লেবু ও মধুর ব্যবহার করতে একটি পরিষ্কার বাটিতে লেবুর রস এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্ট তৈরি করা হয়ে গেলে তা মুখে লাগিয়ে নিন এবং পেস্টটি শুকিয়ে যাওয়ার জন্য দশ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।এই ফেস প্যাকটি ফেসিয়াল বার্নস এবং পিম্পলস দূর করতে খুবি কার্যকরী।

বেসন, মধু এবং হলুদ

বেসন, মধু এবং হলুদ

ময়দা ও হলুদ এর সাথে ছোলা ময়দা (বেসন) ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

একটি বাটিতে ২ চা চামচ ছোলার ময়দা নিন এবং এতে ১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ হলুদ দিন। হলুদ মৃত ত্বক দূর করতে এবং চকচকে করতে সহায়তা করে। সকল উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং এটি আপনার মুখে লাগিয়ে নিন।

তারপরে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং এরপরে কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। অল্প সময়ের মধ্যে উজ্জ্বল এবং ফর্সা ত্বক পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বেসন এবং হলুদ পেস্ট।আপনি চাইলে প্রতি সপ্তাহে একবার এই পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন।

কলা, দই এবং ডিম

কলা ভিটামিন এবং আয়রনের খনি তাই ত্বক ফর্সা করার উপায় হিসেবে কলা, দই ও ডিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ত্বকের পাশাপাশি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী।একটি মাঝারি আকারের কলা নিন এবং কলাটিকে ছিলে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টে ২ থেকে ৩ চামচ দই এবং একটি ডিম মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর হাতের তিন আঙ্গুল দিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ২০-৩০ মিনিটের জন্য মুখে রেখে দিন তারপর পরিষ্কার জলে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন যা আপনার ত্বকে নতুন উজ্জ্বলতা দিবে।

শসা এবং তরমুজের রস

আপনি যদি আপনার সৌন্দর্য বাড়াতে চান তবে শসা এবং তরমুজের ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এই ফেস প্যাকটি আপনার তৈলাক্ত ত্বক এর জন্য খুব উপকারী। তরমুজে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ত্বকের কুঁচকে ভাব দূর করে। দুই চামচ শসার রস এবং দুই চামচ তরমুজের রস নিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন মিশানো শেষে আপনার মুখ এবং ঘাড়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন।এই ফেস প্যাক ব্যবহারের পর পনের মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর এটি ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি রোদে পোড়া ও সূর্যের পোড়ার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

ওটমিল, টমেটোর রস এবং দুধের গুঁড়া

টমেটো প্রাকৃতিক অ্যাসিডের কারণে টক হয় যা ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল করতে বেশ উপকারী। পরিমান মতো টমেটোতে ওটমিল ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি পেস্ট করুন। এই উপাদান দিয়ে তৈরি করা ফেস পেক একটি দুর্দান্ত ফেস প্যাক হিসেবে কাজ করবে। এই প্যাকটি ত্বকের মৃত কোষগুলি দূর করে দেয়। ওটমিল, দুধ এবং টমেটোর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই ফেস পেক আপনার চোখের প্রান্ত ব্যতীত আপনার সমস্ত মুখে লাগান। ১০ ​​মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপরে হালকা গরম জল দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন। এটি আপনার মুখে স্বাস্থ্যকর আভা দেবে।

আখরোট গুঁড়ো এবং দুধ ক্রিম

ত্বক ফর্সা করার ফেসিয়াল হিসেবে দই, ক্রিম, মধু এবং হলুদে কিছুটা আখরোটের গুঁড়ো যুক্ত করে পেস্ট তৈরি করুন।এরপর পেস্টটি আপনার মুখে লাগান শুকানোর পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আখরোটের সাথে মিশ্রিত জিনিসগুলি কয়েক দিনের মধ্যে আপনার ত্বককে ফর্স করে তুলবে।

ফেস মাস্ক

এটি শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য হোক বা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য হোক ফেস মাস্ক দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক ওষুধ বা থেরাপি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকগুলি প্রাকৃতিক উদ্ভিদের তেল যেমন তুলসী, গোলাপ, জুঁই ইত্যাদি এই থেরাপিতে ব্যবহৃত হয়। অ্যারোমা থেরাপি এর মাধ্যমে, আপনি কেবল আপনার মুখের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তুলতে পারবেন তা নয় এটি ব্যবহারে ফলে অনেক রোগ থেকেও মুক্তি পেতে পারেন। এই সমস্ত প্রাকৃতিক উদ্ভিদের তেল শরীরে ম্যাসাজ করা হয়।যা দেহে মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরবৃত্তীয় উভয় ক্ষেত্রে দারুণ প্রভাব ফেলে।

ত্বক ফর্সা করার প্রাকৃতিক উপায় ও গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • আপনার মুখের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, পানির অভাবে আপনার ত্বক নিষ্প্রাণ হয়ে যায় ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
  • নারকেল পানি মুখের ত্বকের জন্যও খুব উপকারী তাই নারকেল পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন।
  • মুখে কাঁচা পেঁপের পেস্ট লাগালে ত্বক স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর দেখাবে। এতে উপস্থিত পেপাইন এনজাইমগুলি আপনার ত্বককে সুরক্ষা দেয়।
  • গোলাপ জল মুখের জন্য সর্বাধিক এবং কার্যকর প্রাকৃতিক জল। এক চা চামচ গোলাপজল এবং এক চা চামচ দুধের সাথে দুই থেকে তিন ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল থাকে।
  • মুখের আঠালোতা দূর করতে এক চা চামচ গোলাপজল এবং গ্রাউড পুদিনার সাথে এক চা চামচ লেবুর রস মিশ্রিত করুন এবং এই মিশ্রন ১ ঘন্টা মুখে লাগিয়ে রাখুন। এক ঘন্টা পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  • মুখের ত্বককে সুন্দর ও দৃঢ় করতে মুখ ও ঘাড়ে মধু লাগান, কিছুটা শুকানোর পরে হালকা গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।

আপনি যদি নিজের ত্বককে পরিমার্জন করতে চান – তবে আমাদের দেওয়া এই ত্বক ফর্সা করার উপায় বা বিউটি টিপস অনুসরণ করুন, যা আপনার ত্বককে সুস্থ রাখবে এবং উজ্জ্বল করবে। আমাদের দেওয়া বিউটি টিপস গুলোতে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। আপনাকে আরো সবার সামনে সুন্দর উপাস্থাপন করতে আমাদের ওয়েবসাইটের সকল রুপচর্চা বিষয়ক টিপস অনুসরণ করুন আশা করি আমাদের লেখা আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।

আশাকরি আমাদের জানতে হবে এর লেখা ত্বক ফর্সা করার উপায় – ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় আপনার ভালো লেগেছে।যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন আর আমাদের সাথে ফেসবুকে যুক্ত হয়ে আমাদের নতুন নতুন লেখা পড়তে পারেন এবং আমাদের ফেসবুক পেইজে আপলোড করা ভিডিও দেখতে পারেন।

Check Also

রাতের বিউটি টিপস

রাতের বিউটি টিপস – রাতে যে ৫টি বিউটি টিপস অবশ্যই পালনীয়

রাতের বিউটি টিপস সম্পর্কে অনেকে জানেন আবার অনেকেই জানেন না।অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় নিত্য নতুন বিউটি …