চুলের যত্নে বানিয়ে নিন আপনার নিজস্ব স্পেশাল তেল

চুলের যত্ন – জলে চুন তাজা, তেলে চুল তাজা! টাং টুইস্টার হিসেবে এই বাক্যটি যতটা জনপ্রিয়, তার সত্যতাও ততটাই! চুলে নিয়মিত তেল মাখলে তা যেমন চুলের গোড়ায় পুষ্টি জুগিয়ে চুল মজবুত করে তোলে, তেমনি চুল আর্দ্র সতেজ রেখে ধরে রাখে স্বাভাবিক চকচকেভাব।

কিন্তু প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা, তেমনি তাঁদের চুলের সমস্যা ও চাহিদাও ভিন্ন ভিন্ন। কারও হয়তো খুসকির সমস্যা, আবার কারও চুল আর্দ্রতার অভাবে শুষ্ক, বিবর্ণ! আবার যাঁদের চুল স্বাভাবিকভাবেই তেলতেলে, সামান্য ভারী তেলেও তাঁদের চুল প্রচণ্ড নেতিয়ে পড়ে। ফলে তাঁদের দরকার হালকা তেল!

চুলের যত্নে বানিয়ে নিন আপনার নিজস্ব স্পেশাল তেল

মুশকিল হল, এতরকম তেল তো আর রেডিমেড পাওয়া সম্ভব নয়, তাই অনেক সময়ই চুলের বিশেষ চাহিদাগুলো অবহেলিত হয়। সাধারণভাবে যে কোনও ধরনের চুলের জন্যই কোল্ডপ্রেসড অর্গানিক তেল ব্যবহার করা ভালো। তবে তার সঙ্গে যদি মিশিয়ে নিতে পারেন কিছু বিশেষ ভেষজ উপাদান, তা হলে আপনার চুলের নানা সমস্যাকে দূরে রাখতে পারবেন সহজেই। চলুন জেনে নেই চুলের যত্ন নিতে কিভাবে নিজের জন্য স্পেশাল তেল বানাবেন।

নতুন চুলের জন্য জবাফুল

আপনার চুল কি পাতলা হয়ে যাচ্ছে দিন দিন? তা হলে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন জবাফুলের গুণ। পাঁচটা জবাফুল আর পাঁচটা জবাপাতা একসঙ্গে থেঁতো করে মসৃণ পেস্ট করে নিন। এবার ১০০ মিলি অলিভ বা নারকেল তেলের মতো কেরিয়ার অয়েল পাত্রে নিয়ে গরম করুন। তেল গরম হয়ে উঠলে তাতে থেঁতো করা ফুল-পাতার পেস্টটা দিয়ে দিন। তেল ফুটে উঠলে আঁচ থেকে নামিয়ে ছাঁকনিতে ছেঁকে এয়ার টাইট বোতলে ভরে রাখুন। প্রতিবার এই তেলই মাথায় আর স্ক্যাল্পে ভালো করে মাসাজ করে আধঘণ্টা রাখবেন, তারপর শ্যাম্পু করে নেবেন।

আরো পড়ুনঃ  খুশকি দূর করার উপায় – খুশকি দূর করার সহজ উপায়

খুসকি কমাতে লেবু

অনেকদিন ধরে খুসকি ভোগাচ্ছে? আপনার দরকার লেবুর গুণ কমলালেবু আর পাতিলেবুর খোসা রোদে খটখটে করে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। তারপর ১০০ মিলি নারকেল বা অলিভ অয়েল গরম করে তাতে এক টেবিলচামচ লেবুর খোসার গুঁড়ো দিন। তেল ফুটে গেলে নামিয়ে ছাঁকনিতে ছেঁকে ব্যবহার করুন। চুলের যত্ন নিতে এবং খুসকি কমাতে সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করতে পারেন।

চুল ওঠার জন্য আমলকি

আমলকি গুঁড়ো বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন। ১০০ গ্রাম আমলকি পাউডার বানাতে পনেরো-কুড়িটা আমলকি টুকরো করে কেটে রোদে খটখটে করে শুকিয়ে নিন। একদম শুকিয়ে গেলে ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডারে দিয়ে গুঁড়ো করে নেবেন। এবার ওই গুঁড়ো থেকে অর্ধেকটা নিয়ে চার লিটার জলে ফেলে ফোটান। জল ফুটে ফুটে অর্ধেক হলে আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। জল ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন।

আরো জানুনঃ চুল লম্বা করার সহজ উপায় – চুল লম্বা করার ঘরোয়া উপায়

এবার আর একটা পাত্রে বাকি অর্ধেক আমলকি পাউডার অল্প জলে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আমলকি গুঁড়ো মেশানো যে জলটা ঠান্ডা হতে দিয়েছিলেন, তাতে এই পেস্ট আর এক কাপ পরিমাণ অর্গানিক নারকেল তেল যোগ করে ফের আঁচে বসান। পুরো জলটা ফুটে ফুটে উবে যাবে, পড়ে থাকবে শুধু তেল আর আমলকি পাউডারের মিশ্রণ। ঠান্ডা করে এয়ার টাইট কৌটোয় ভরে রাখুন। সপ্তাহে দু’ দিন এই তেল ব্যবহার করুন।

মাথার চুলকানির জন্য তুলসি

তুলসির নির্যাসযুক্ত তেল বানাতে প্রথমেই একগোছা তুলসিপাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে অল্প জলে বেটে নিন। এর পর ১০০ মিলি কোল্ড-প্রেসড নারকেল তেল নিভু আঁচে গরম করে তাতে তুলসিপাতা বাটাটা দিয়ে দিন। ইচ্ছে করলে এর সঙ্গে এক চাচামচ মেথিও দিতে পারেন। তেলটা মিনিট দশেক কম আঁচে গরম করুন, তারপর নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিয়ে এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে রেখে দিন, প্রয়োজনমতো ব্যবহার করুন।

পাকা চুল কমাতে কারিপাতা

দু’ টেবিলচামচ পরিমাণ কোল্ড প্রেসড নারকেল তেল গরম করুন, তাতে কারিপাতাগুলো দিয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে রাখবেন, তাতে কারিপাতাগুলোর ধার বরাবর কালো কালি তৈরি হতে শুরু করবে। পাতা কালো হয়ে গেলে আঁচ থেকে নামিয়ে তেল ঠান্ডা হতে দিন, তারপর ছেঁকে নিন। পাকা চুলের উৎপাত কমাতে সপ্তাহে দু’ তিনবার ব্যবহার করা যায় এই তেল।

আমাদের চুলের যত্ন নিতে স্পেশাল তেলের লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।