Home / জানা অজানা / ডায়াবেটিস রোগীরা কেন উচ্চরক্ত চাপে ও হৃদরোগে ভোগেন?

ডায়াবেটিস রোগীরা কেন উচ্চরক্ত চাপে ও হৃদরোগে ভোগেন?

ডায়াবেটিস সমস্যাঃ রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বা সুগার শরীরের বেশির ভাগ কোষে কিছু বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। এ জন্য এ কোষগুলো নিজেদের কাজ ঠিকমতো করতে পারে না। ফলে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিসাধিত হয়, যার বেশির ভাগই পরে আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না। কিছুদিন রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে যে পরিবর্তন শুরু হয়, হাতেনাতে পাওয়া না গেলেও দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আমরা একধারে এর নাম করছি।

* রেটিনায় বেটিনোপ্যাথি হয়ে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশের যত বয়স্ক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারায়, তার বেশির ভাগই হারায় দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসের কারণে। বিশেষত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে। বয়স্কদের চোখের ছানি পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। আবার অপটিকাল স্নায়ু একেবারে নষ্ট করে দিতে পারে ডায়াবেটিসে।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস হলে যে ৫টি ফল খাওয়া উচিৎ নয়

* নেফ্রোপ্যাথির কারণে কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। আমরা চারপাশে যত কিডনি বিকলের (রেনাল ফেইলার) রোগী দেখি, তাদের বেশির ভাগই অনেকদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছে এবং ডায়াবেটিস যথেষ্ট ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এদের অনেককেই অকালে মৃত্যুবরণও করতে হচ্ছে। কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারলে হয়তো বেশ ক’বছর বাঁচার সম্ভাবনা থাকত তাদের। কিন্তু সেটাই বা আমাদের দেশের কয়জনের পক্ষে সম্ভব?

* ডায়াবেটিস রোগীরা ব্যাপক হারে উচ্চরক্ত চাপে ও হৃদরোগে ভুগছে। এদের একত্রে অবস্থান আতঙ্কজনক হয়ে দেখা দিচ্ছে। আমাদের দেশে যে হারে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তার চেয়ে অধিক হারে বাড়ছে হৃদরোগী এর সংখ্যা। ডায়াবেটিস রোগীর হৃদরোগ থাকলে যেকোনো ধরনের মারাত্মক সমস্যা যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে। এমনকি হার্ট অ্যাটাক ও মৃত্যু। তা ছাড়া রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগ ক্রমাগত হারে বেড়ে চলেছে।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ১০টি ফল

* ডায়াবেটিস রোগীদের মাঝে স্ট্রোকের হার বেশি। সে জন্য তাদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস যাদের নেই; তাদের চেয়ে নিচের মাত্রায় রাখা উচিত। শুধু তাই নয়, ডায়াবেটিস রোগীর স্ট্রোক হলে স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি ও সুস্থ হওয়ার গতি কমে থাকে।

* ডায়াবেটিস রোগীরা বছরের পর বছর নানারকম স্নায়বিক সমস্যায় ভোগে। সাধারণত পায়ের তলা জ্বলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন চরিত্রের ব্যথা পর্যন্ত। এমনকি বাইরের ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুগুলোর কর্মক্ষমতাও অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যেতে পারে। এসব উপসর্গের সামান্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না হলে সারে না।

* ছোট ছোট রক্তনালী ও স্নায়ুর কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে হাত ও পায়ের অনুভূতি কমে যায়। এর থেকে পায়ে ছোটখাটো আঘাত থেকে সৃষ্ট ক্ষত না সারার কারণে পায়ে গ্যাংগ্রিন হতে পারে। এ জন্য পরে হয়তো আঙুল বা পা কেটে ফেলতে হয়।

আরো পড়ুনঃ ৭টি দারুন খাবার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করবে

* ডায়াবেটিস রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এ জন্য ঘন ঘন বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে থাকে। কারো কারো মাঝে মধ্যেই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোঁড়া হতে থাকে। আবার কারো কারো ছোটখাটো ঘা বা ফোঁড়া সহজে শুকাতে চায় না। ডায়াবেটিস রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগায় ফুসফুসের টিবি রোগ। এ ছাড়া হেপাটাইটিস, এইডসও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

* ডায়াবেটিসের জরুরি অবস্থা হতে পারে ডায়াবেটিক কোমায় গেলে। এতে অনেক রোগীর প্রতি বছর মৃত্যু হয়।

ডায়াবেটিস রোগীর চোখের যত্ন?

ডায়াবেটিসকে চোখের নিঃশব্দ ঘাতক বলে। ডায়াবেটিস থাকলে বিশেষত যারা টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তারা সহজে বুঝতে পারে না, ধীরে ধীরে কিভাবে চোখের ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। যখন বোঝেন, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই চোখের কোনো অসুবিধা থাক বা না থাক, প্রতি ৮ বা ৯ মাস পর পর চোখের ডাক্তার দেখিয়ে চোখ পরীক্ষা করাটা জরুরি। আর এর সাথে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও নিরূপণ করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে বে। চোখের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, রেটিনা অজস্র সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রক্তনালী শিরা-উপশিরা আছে, যারা সবসময় বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে রেটিনাকে পুষ্টি জোগায়। রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গেলে এসব সূক্ষ্ম শিরা-উপশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও শিরা কেটে গিয়ে রক্তপাত হয়। রেটিনা ফুলে উঠে। একে বলে ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি। চার ধরনের রেটিনাপ্যাথি হয়। এর চরম পরিণতি অন্ধত্ব। নিশ্চিত চেকআপ ও যথাযথ চিকিৎসায় এ অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সারানোও যায়। তবে যারা নিয়মিত চেকআপ করেন না তাদের ক্ষেত্রে রোগটি এমন সময় হয়তো ধরা পড়ল যখন আর করার মতো কিছু নেই। অন্ধত্ব, আবার ডায়বেটিস রোগীদের চোখে ছানি পড়ার হার খুব বেশি যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে তারা যাদের ডায়াবেটিস হয়নি তাদের চেয়ে দুই গুণ হারে ছানিতে আক্রান্ত হন।

Check Also

শবে কদরের ইতিহাস

শবে কদরের ইতিহাস – লাইলাতুল কদরের ইতিহাস ও ফজিলত

শবে কদরের ইতিহাসঃ শবে কদর ( لیلة القدر‎) আরবিতে লাইলাতুল কদর। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত …